ভারত টিভি ডিজিটালঃ মাধ্যমিকে রাজ্যসেরার সাফল্যে যখন গর্বিত ছিল রায়গঞ্জ, ঠিক তখনই উচ্চ মাধ্যমিকের ফল প্রকাশে সামনে এল সম্পূর্ণ বিপরীত ছবি। এবারের মেধাতালিকায় স্থান পেল না উত্তর দিনাজপুর জেলার কোনও স্কুলের কোনও পরীক্ষার্থী। আর তাতেই হতাশ জেলার শিক্ষা মহল।
“ঐতিহ্যের জেলায় প্রথমবার শূন্যতা”
- উত্তর দিনাজপুরে বরাবরই উচ্চ মাধ্যমিকে ভালো ফলের ঐতিহ্য রয়েছে
- রায়গঞ্জের করোনেশন উচ্চ বিদ্যালয়
- শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ বিদ্যাভবন
- দ্বারিকা প্রসাদ উচ্চ বিদ্যাচক্র
- এছাড়াও কালিয়াগঞ্জ ও ইসলামপুরের একাধিক স্কুল থেকে অতীতে বহু ছাত্রছাত্রী মেধাতালিকায় স্থান পেয়েছে
- কিন্তু কয়েক দশকের মধ্যে এই প্রথম জেলার নাম নেই মেধাতালিকায়মাধ্যমিকে রাজ্যসেরার গৌরব এসেছিল রায়গঞ্জের ঝুলিতে। সেই সাফল্যে যখন উচ্ছ্বসিত ছিল গোটা উত্তর দিনাজপুর, ঠিক তখনই উচ্চ মাধ্যমিকের ফল প্রকাশে সামনে এল সম্পূর্ণ উল্টো ছবি। এবারের উচ্চ মাধ্যমিকের মেধাতালিকায় স্থান পেল না উত্তর দিনাজপুর জেলার কোনও স্কুলের কোনও পরীক্ষার্থী। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলায় তৈরি হয়েছে হতাশা ও উদ্বেগের পরিবেশ।শিক্ষামহলের একাংশের মতে, কয়েক দশকের মধ্যে এই প্রথম এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হল উত্তর দিনাজপুর। একসময় রাজ্যের মেধাতালিকায় নিয়মিত জায়গা করে নিত জেলার বিভিন্ন স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা। বিশেষ করে রায়গঞ্জের করোনেশন উচ্চ বিদ্যালয়, শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ বিদ্যাভবন, দ্বারিকা প্রসাদ উচ্চ বিদ্যাচক্র-সহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বরাবরই জেলার গর্ব ছিল। শুধু রায়গঞ্জ শহরই নয়, কালিয়াগঞ্জ, ইসলামপুর-সহ জেলার বিভিন্ন প্রান্তের স্কুল থেকেও বহু পরীক্ষার্থী অতীতে রাজ্যের সেরাদের তালিকায় নাম তুলেছে।
“কেন এই ফলাফল?”
- প্রধান শিক্ষকদের একাংশের দাবি
- নতুন সেমিস্টার পদ্ধতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে সমস্যায় পড়েছে ছাত্রছাত্রীরা
- প্রস্তুতির সময় কমে গেছে
- ধারাবাহিক পরীক্ষার চাপও তৈরি করেছে সমস্যা
- কি বললেন শিক্ষকরা ! দেখুন –
- অনেকের মতে, মেধাতালিকার জন্য প্রয়োজনীয় ‘কম্পিটিটিভ প্রস্তুতি’র অভাবও রয়েছে।
এবারের ফল সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি তুলে ধরেছে। মেধাতালিকায় জেলার কোনও নাম না থাকায় হতাশ বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা। তাঁদের বক্তব্য, ছাত্রছাত্রীদের মেধা বা পরিশ্রমে কোনও ঘাটতি নেই, কিন্তু নতুন সেমিস্টার পদ্ধতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে গিয়ে অনেকেই সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। - প্রধান শিক্ষকদের একাংশের দাবি, আগে যেখানে বার্ষিক পরীক্ষার জন্য দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্তুতির সুযোগ থাকত, সেখানে বর্তমানে সেমিস্টার ভিত্তিক পরীক্ষায় পড়ুয়াদের উপর ধারাবাহিক চাপ তৈরি হচ্ছে। কম সময়ের মধ্যে সিলেবাস শেষ করা, নিয়মিত মূল্যায়ন এবং প্রতিযোগিতামূলক প্রস্তুতির অভাব— সব মিলিয়ে মেধাতালিকায় প্রভাব পড়েছে বলেই মনে করছেন তাঁরা।শিক্ষকদের আরও দাবি, শুধুমাত্র মেধাতালিকাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার মান বিচার করা ঠিক নয়। এবছর জেলার বহু স্কুলেই পাশের হার সন্তোষজনক। অনেক ছাত্রছাত্রী ভালো নম্বরও পেয়েছে। কিন্তু রাজ্যের প্রথম সারির তালিকায় নাম না থাকায় স্বাভাবিকভাবেই মানসিক ধাক্কা লেগেছে শিক্ষা মহলে।
এদিকে অভিভাবকদের একাংশও মনে করছেন, বর্তমানে প্রতিযোগিতা আগের তুলনায় অনেক বেশি বেড়েছে। শহরাঞ্চলের পাশাপাশি বিভিন্ন জেলার ছাত্রছাত্রীরাও এখন উন্নত প্রযুক্তি ও কোচিং ব্যবস্থার সুযোগ পাচ্ছে। সেই জায়গায় উত্তর দিনাজপুরের বহু পড়ুয়া এখনও পিছিয়ে রয়েছে। ফলে মেধাতালিকায় জায়গা করে নিতে গেলে আগামী দিনে আরও পরিকল্পিত প্রস্তুতির প্রয়োজন রয়েছে বলেই মত তাঁদের।
“শুধু মেধাতালিকা নয়, সামগ্রিক ফলও গুরুত্বপূর্ণ”
- অনেক স্কুলেই পাশের হার ভালো
- বহু পরীক্ষার্থী উচ্চ নম্বর পেয়েছে
- কিন্তু মেধাতালিকায় নাম না থাকায় মানসিক ধাক্কা বড় হয়ে উঠেছে
- শিক্ষা মহলের মতে, শুধুমাত্র টপার নয়, সামগ্রিক শিক্ষার মানও গুরুত্বপূর্ণ
তবে হতাশার মাঝেও আশার সুর শোনা গিয়েছে শিক্ষকদের গলায়। তাঁদের বক্তব্য, নতুন সেমিস্টার পদ্ধতির সঙ্গে ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে উঠবে ছাত্রছাত্রীরা। আগামী বছরগুলিতে আবারও জেলার স্কুলগুলি মেধাতালিকায় নিজেদের জায়গা ফিরে পাবে বলেই আশা প্রকাশ করেছেন তাঁরা। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন স্কুলে বিশেষ প্রস্তুতি, অতিরিক্ত ক্লাস এবং মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের জন্য আলাদা গাইডেন্সের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানা গিয়েছে।
“আশাবাদী শিক্ষামহল”
- হতাশার মাঝেও আশা ছাড়ছেন না শিক্ষকরা
- আগামী বছরে আরও ভালো ফলের প্রত্যাশা
- নতুন সেমিস্টার পদ্ধতির সঙ্গে ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হবে পড়ুয়ারা
- ইতিমধ্যেই অনেক স্কুলে বিশেষ প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে দাবি
মাধ্যমিকে সাফল্যের পর উচ্চ মাধ্যমিকে এই ধাক্কা নিঃসন্দেহে উত্তর দিনাজপুরের শিক্ষা মহলের কাছে বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে। তবে অনেকের মতে, এটি সাময়িক পরিস্থিতি। সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক প্রস্তুতি এবং নতুন পরীক্ষাপদ্ধতির সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারলেই আবারও জেলার ছাত্রছাত্রীরা রাজ্যের মেধাতালিকায় নিজেদের উপস্থিতি জানান দিতে সক্ষম হবে।
