ভারত টিভি ডিজিটাল: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ও পরিকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করল মালদা জেলা প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর এই উদ্যোগকে ঘিরে প্রশাসনিক তৎপরতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতিবার মালদা জেলা শাসকের দফতরে একটি গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে জেলা প্রশাসনের একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি বিএসএফ, কেন্দ্রীয় পূর্ত দফতর ও সড়ক পরিবহণ দফতরের প্রতিনিধিরাও বৈঠকে যোগ দেন। উপস্থিত ছিলেন মালদার সাংসদ ইশা খান চৌধুরীও।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই পরিকাঠামো উন্নয়ন ও নিরাপত্তা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছিল। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি ব্যবস্থা আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করার জন্য নতুন রাস্তা নির্মাণ, নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনীর যাতায়াতের সুবিধা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেই কারণেই প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।
বৈঠকে জমি চিহ্নিতকরণ, ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত বিষয়, স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং প্রশাসনিক অনুমোদনের মতো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে আইন মেনেই সমস্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
বৈঠকের পর মালদার জেলা শাসক রাজনবীর সিং কাপুর জানান, সীমান্ত এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজের স্বার্থে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, কেন্দ্র ও রাজ্যের বিভিন্ন দফতরের মধ্যে সমন্বয় রেখে দ্রুত কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের স্বার্থের দিকেও প্রশাসন নজর রাখবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
অন্যদিকে, সাংসদ ইশা খান চৌধুরী বলেন, সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সীমান্তবর্তী এলাকার সামগ্রিক উন্নয়ন ঘটবে এবং স্থানীয় মানুষও তার সুফল পাবেন।
প্রশাসন সূত্রে খবর, আগামী দিনে সীমান্ত সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে জমি সমীক্ষার কাজ শুরু হবে। এরপর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদন মিললে অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া আরও দ্রুত গতিতে এগোবে বলে মনে করা হচ্ছে।
