কেন্দ্রে বিজেপি সরকারের ১২ বছর পূর্তি এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দীর্ঘ ও ঐতিহাসিক প্রধানমন্ত্রিত্বের সাফল্যকে স্মরণীয় করে রাখতে বুধবার এক বিশেষ ধর্মীয় ও সাংগঠনিক কর্মসূচির আয়োজন করল কালিয়াগঞ্জ শহর ও ব্লক বিজেপি নেতৃত্ব। দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং দেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় থাকার কামনায় উত্তরবঙ্গের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় স্থান কালিয়াগঞ্জের বয়রাকালী মন্দিরে বিশেষ পুজো ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই মন্দির প্রাঙ্গণে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বের প্রতি সমর্থন ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন উপস্থিত নেতাকর্মীরা।
বুধবার সকালে কালিয়াগঞ্জ শহর মণ্ডল সভাপতি অপূর্ব রায়ের নেতৃত্বে এই বিশেষ কর্মসূচির সূচনা হয়। মন্দিরে পুজো অর্চনার পাশাপাশি দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণ কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, বর্তমান সময়ে বিশ্বজুড়ে যখন অস্থিরতা, সংঘাত এবং যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দৃঢ় নেতৃত্ব ভারতের নিরাপত্তা, উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক মর্যাদাকে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। সেই কারণেই তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের জন্য এই বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয়েছে।
এদিনের কর্মসূচিতে কালিয়াগঞ্জ শহর মণ্ডলের পাশাপাশি ব্লকের অন্যান্য তিনটি মণ্ডলের সভাপতিরাও উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বিজেপির বিভিন্ন স্তরের নেতৃত্ব, জনপ্রতিনিধি, মহিলা কর্মী এবং সাধারণ সমর্থকেরা এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। উপস্থিত নেতাদের বক্তব্যে উঠে আসে গত এক যুগে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান শক্তিশালী হওয়ার প্রসঙ্গ।
বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে গত বারো বছরে ভারত বহু ক্ষেত্রে নজিরবিহীন অগ্রগতি করেছে। দেশের অর্থনীতি, প্রযুক্তি, অবকাঠামো, প্রতিরক্ষা এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্প চালু করা হয়েছে। গ্রামীণ উন্নয়ন, কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং সামাজিক সুরক্ষার মতো ক্ষেত্রেও কেন্দ্র সরকার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে দাবি করেন তাঁরা।
বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, উজ্জ্বলা যোজনা, আয়ুষ্মান ভারত, জনধন যোজনা, স্বচ্ছ ভারত অভিযান, ডিজিটাল ইন্ডিয়া এবং আত্মনির্ভর ভারত কর্মসূচির মতো প্রকল্পগুলির কথা উল্লেখ করেন উপস্থিত নেতারা। তাঁদের মতে, এই প্রকল্পগুলি দেশের কোটি কোটি মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। দরিদ্র, কৃষক, শ্রমিক, মহিলা এবং যুব সমাজকে উন্নয়নের মূলধারায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগগুলির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
পুজো উপলক্ষে মন্দিরে উপস্থিত বহু কর্মী-সমর্থক জানান, নরেন্দ্র মোদী শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি কোটি কোটি ভারতীয়র কাছে উন্নয়ন, আত্মবিশ্বাস এবং জাতীয় গৌরবের প্রতীক। তাঁদের বক্তব্য, গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তাঁর নেতৃত্বে ভারত আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে নিজের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেছে। বিশ্বের বড় বড় শক্তিধর রাষ্ট্রগুলির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার পাশাপাশি দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তিনি।
এদিনের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শহর মণ্ডল সভাপতি অপূর্ব রায় বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভারতের ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। দীর্ঘ সময় ধরে দেশের নেতৃত্ব দিয়ে তিনি উন্নয়নের ধারাকে আরও গতিশীল করেছেন। দেশের মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করে তিনি আজ বিশ্বমঞ্চে ভারতের মুখ হয়ে উঠেছেন। তাঁর নেতৃত্বে ভারত যে গতিতে এগিয়ে চলেছে, তা দেশের জন্য গর্বের বিষয়।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বিশ্ব রাজনীতিতে এক অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিভিন্ন দেশে যুদ্ধ, সংঘাত এবং নিরাপত্তা সংকট দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতেও ভারত তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল অবস্থানে রয়েছে। এর অন্যতম কারণ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং দৃঢ় প্রশাসনিক দক্ষতা। দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তিনি সবসময় অগ্রাধিকার দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন অপূর্ব রায়।
বয়রাকালী মন্দিরে অনুষ্ঠিত এই বিশেষ পুজোকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় আবহের পাশাপাশি রাজনৈতিক তাৎপর্যও ছিল যথেষ্ট। মন্দিরে পূজার্চনার সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘ জীবন এবং ভবিষ্যতেও দেশের নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা কামনা করে প্রার্থনা করা হয়। উপস্থিত কর্মী-সমর্থকেরা দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায়ও প্রার্থনা করেন।
স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের মতে, ভারত আজ বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতির দেশ। করোনা মহামারির মতো কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখা, টিকাকরণ কর্মসূচির সফল বাস্তবায়ন এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের মর্যাদা বৃদ্ধি—এই সমস্ত ক্ষেত্রেই নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সেই কারণেই তাঁকে দেশের অন্যতম সফল প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিবেচনা করেন তাঁরা।
এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আনন্দ পাশমান, গৌরাঙ্গ দাস, সন্তোষ ব্যাঙ্গানী, মাম্পি সিংহ, পুর কাউন্সিলর বর্ণালী দাস, পুর কাউন্সিলর পিয়ালী সাহাসহ আরও বহু বিজেপি নেতা ও কর্মী। সকলেই পুজো ও প্রার্থনায় অংশগ্রহণ করেন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন ও সুস্বাস্থ্য কামনা করেন।
উপস্থিত নেতাদের বক্তব্যে আরও উঠে আসে জাতীয় নিরাপত্তার প্রসঙ্গ। তাঁদের মতে, সীমান্ত সুরক্ষা, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আধুনিকীকরণের মাধ্যমে ভারতকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী। আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও ভারতের অবস্থান আগের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী হয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা।
অনুষ্ঠান চলাকালীন বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকেই বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারত যে উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে, তা আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে বলে তাঁদের বিশ্বাস। সেই লক্ষ্যেই তাঁরা প্রার্থনা করতে এসেছেন। দেশকে আরও সমৃদ্ধ, শক্তিশালী এবং আত্মনির্ভর হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বজায় থাকুক, এমনই কামনা করেন তাঁরা।
মন্দির চত্বরে ধর্মীয় রীতি মেনে পুজো সম্পন্ন হওয়ার পর প্রসাদ বিতরণ করা হয়। উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ভক্তিমূলক পরিবেশের পাশাপাশি রাজনৈতিক উদ্দীপনাও লক্ষ্য করা যায়। বিজেপি নেতৃত্বের মতে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে শুধু প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানানো নয়, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্যও প্রার্থনা করা হয়েছে।
কালিয়াগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী বয়রাকালী মন্দির দীর্ঘদিন ধরেই এলাকার মানুষের আস্থার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষে এখানে পুজো ও প্রার্থনার আয়োজন হয়ে থাকে। সেই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনায় আয়োজিত এই বিশেষ পুজো স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে যথেষ্ট আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, দেশের উন্নয়নের স্বার্থে এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণে আগামী দিনেও তাঁরা বিভিন্ন সামাজিক, সাংগঠনিক এবং জনসংযোগমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করবেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ‘বিকশিত ভারত’-এর স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করার আহ্বানও জানানো হয় এদিন।
সব মিলিয়ে কেন্দ্রে বিজেপি সরকারের ১২ বছর পূর্তি এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দীর্ঘ প্রধানমন্ত্রিত্বকে স্মরণ করে কালিয়াগঞ্জের বয়রাকালী মন্দিরে আয়োজিত এই বিশেষ পুজো ও প্রার্থনা কর্মসূচি রাজনৈতিক ও সামাজিক দুই ক্ষেত্রেই বিশেষ তাৎপর্য বহন করেছে। ধর্মীয় আবেগ, রাজনৈতিক সমর্থন এবং দেশের কল্যাণ কামনার বার্তা নিয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ছিল উৎসাহ, উদ্দীপনা এবং ভবিষ্যতের প্রতি আশাবাদের প্রকাশ।
