গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে বড়সড় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে প্রায় এক কোটি ৩০ লক্ষ টাকা মূল্যের ব্রাউন সুগার উদ্ধার করল গোয়ালপোখর থানার পুলিশ। এই ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে একজনের বাড়ি থেকে মাদক তৈরির সরঞ্জাম, বিপুল পরিমাণ মাদকগুঁড়ো এবং নগদ অর্থও উদ্ধার হয়েছে। ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মালদা থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক এনে গোয়ালপোখর এলাকায় ব্রাউন সুগার তৈরি ও পাচারের একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে গোপন সূত্রে খবর পান তদন্তকারীরা। সেই তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার রাতে গোয়ালপোখর থানার পুলিশ সোলপাড়া এলাকায় অভিযান চালায়। পুলিশ জানতে পারে, ওই এলাকায় অবস্থিত আব্দুল সালেম নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে মাদক মজুত রাখা হয়েছে এবং সেখানে ব্রাউন সুগার তৈরির কাজও চলছিল বলে সন্দেহ করা হয়।
সেই সূত্র ধরেই বুধবার গভীর রাতে আব্দুল সালেমের বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। অভিযানে বাড়ির বিভিন্ন অংশে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় সোয়া এক কেজি ব্রাউন সুগার উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি উদ্ধার হয় প্রায় চার কেজি মাদকগুঁড়ো, মাদক প্রস্তুতের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধাতব পাত্র এবং নগদ আড়াই লক্ষ টাকা। উদ্ধার হওয়া ব্রাউন সুগারের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি ৩০ লক্ষ টাকা বলে পুলিশ জানিয়েছে।
অভিযান চলাকালীন ঘটনাস্থল থেকেই গৃহকর্তা আব্দুল সালেমকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তে উঠে আসে, মালদা জেলার কয়েকজন ব্যক্তি ওই বাড়িতে এসেছিলেন এবং মাদক পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে। এরপর ঘটনাস্থল থেকে ইয়াদুল শেখ, মাজুবুর রহমান এবং সামিম আখতার নামে আরও তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃত তিনজনই মালদা জেলার বৈষ্ণবনগর এলাকার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, মালদা থেকে মাদকজাত সামগ্রী এনে গোয়ালপোখরে ব্রাউন সুগার তৈরি করা হত। এরপর সেই মাদক উত্তর দিনাজপুর এবং মালদা জেলার বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হত। দীর্ঘদিন ধরেই একটি সংঘবদ্ধ চক্র এই কারবার চালিয়ে আসছিল বলে পুলিশের অনুমান। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে এবং মাদকের উৎস কোথায়, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া মাদক এবং অন্যান্য সামগ্রী খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ধৃতদের মোবাইল ফোন, আর্থিক লেনদেন এবং যোগাযোগের নেটওয়ার্কও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই চক্রের সঙ্গে অন্য কোনও জেলা বা রাজ্যের পাচারকারীদের যোগ রয়েছে কিনা, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, এলাকায় কিছুদিন ধরেই সন্দেহজনক যাতায়াত লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। তবে এত বড় মাদক চক্রের হদিশ মিলবে, তা অনেকেই ভাবতে পারেননি। পুলিশের এই অভিযানের পর এলাকায় স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষের দাবি, মাদক কারবারের বিরুদ্ধে আরও কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক যাতে যুব সমাজকে এই ভয়াবহ নেশার কবল থেকে রক্ষা করা যায়।
উল্লেখ্য, উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় সাম্প্রতিক সময়ে মাদক পাচারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। বিশেষ করে ব্রাউন সুগার, হেরোইন এবং অন্যান্য নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্যের কারবার রুখতে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। গোয়ালপোখরের এই অভিযান সেই লড়াইয়েরই একটি বড় সাফল্য বলে মনে করছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।
বৃহস্পতিবার ধৃত চারজনকে রায়গঞ্জ জেলা আদালতে পেশ করা হয়। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ ধৃতদের হেফাজতের আবেদন জানিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পুলিশ মনে করছে, ধৃতদের জেরা করে মাদক পাচার চক্রের আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে এবং এই চক্রের সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।
ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
