মস্তানি, তোলাবাজির অভিযোগ ছিল
এলাকায় মাফিয়া রাজ চালানোর অভিযোগ ছিল
ভারত টিভি ডিজিটালঃ নদো-বাপীর পর এবার আটক লিটন। রায়গঞ্জের প্রাক্তন কাউন্সিলর প্রসেনজিৎ সরকার ওরফে লিটন। জমি দখল, তোলাবাজি, মারধর ও অবৈধ মাটি মাফিয়ারাজ চালানোর মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগে শুক্রবার তাঁকে আটক করল রায়গঞ্জ থানার পুলিশ। রাজ্য রাজনীতিতে পরিবর্তন আসার পরই একের পর এক প্রভাবশালী নেতার গ্রেফতারিতে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সমগ্র এলাকায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রায়গঞ্জ পুরসভার ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর লিটনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অসামাজিক ও বেআইনি কার্যকলাপের অভিযোগ উঠছিল। ২০১৭ সালে রায়গঞ্জ পুরসভায় তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তার আশ্রয়ে এলাকায় দাপট ও ‘মস্তানরাজ’ বাড়তে থাকে বলে অভিযোগ। তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ, সাধারণ মানুষের জমি জোড়পূর্বক দখল করা, তোলাবাজি, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মস্তানি, মারধর এবং বেআইনি মাটির কারবার চালানো।
সম্প্রতি চলতি সপ্তাহেও তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে মারধর ও তোলাবাজির অভিযোগ দায়ের হয়।
রায়গঞ্জ থানার পুলিশ এই অভিযোগগুলির ভিত্তিতে শুক্রবার অভিযান চালিয়ে প্রসেনজিৎ সরকার ওরফে লিটনকে আটক করে। স্থানীয়দের একাংশের মতে, পূর্বের শাসকদল তৃণমূলের ছত্রছায়ায় থাকায় এতদিন ছাড় পেয়ে গেলেও জনগণের ক্ষোভ ও রোষ চরমে উঠেছিল। অবশেষে রাজ্যে পরিবর্তনের পর প্রশাসন কড়া পদক্ষেপ নেওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন আক্রান্ত ও ভূক্তভোগী বাসিন্দারা।
এলাকার অন্যান্য অভিযুক্ত প্রাক্তন কাউন্সিলরদের মতো লিটনের গ্রেফতারিও রায়গঞ্জের রাজনৈতিক মহলে বড়সড় তোলপাড় ফেলেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
এই বিষয়ে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবী, প্রায় ১০ বছর ধরে দেবীনগর এলাকায় মস্তানরাজ, তোলাবাজির মাস্টার মাইন্ড ছিল লিটন। মানুষ তার দলবলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন। এবার মানুষ দুহাত ভরে বিজেপিকে ভোট দিয়েছিলেন সুশাসনের জন্য, এইসব মস্তানদের-তোলাবাজদের হাত থেকে নিস্তার পাওয়ার জন্য। এখন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছে, এটা তারই ফল।
তবে এই বিষয়ে তৃণমূলের কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি।