দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের (ডিএইচআর) ইতিহাসে নতুন সাফল্যের অধ্যায় রচিত হলো চলতি বছরের মে মাসে। পর্যটকদের বিপুল সাড়া এবং হেরিটেজ টয় ট্রেনের প্রতি ক্রমবর্ধমান আকর্ষণের জেরে রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব আয় করেছে এই বিশ্ববিখ্যাত রেল পরিষেবা। রেল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে, মে মাসে মোট রাজস্ব আয় হয়েছে ৩৯৫.৬০ লক্ষ টাকা, যা এখন পর্যন্ত এক মাসে সর্বোচ্চ আয়ের রেকর্ড হিসেবে ধরা হচ্ছে।
উত্তরবঙ্গের গর্ব এই টয় ট্রেন দীর্ঘদিন ধরেই দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। দার্জিলিং, কার্শিয়াং ও পার্শ্ববর্তী পাহাড়ি অঞ্চলের মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মধ্যে দিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে চলা এই ঐতিহ্যবাহী ট্রেন যাত্রা পর্যটকদের কাছে এক অনন্য অভিজ্ঞতা প্রদান করে। সেই আকর্ষণই এবার আয়ের নতুন রেকর্ড গড়তে সাহায্য করেছে বলে মনে করছেন রেল কর্তৃপক্ষ।
দার্জিলিং-হিমালয়ান রেলওয়ের সদর দফতর থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে মাসে এই টয় ট্রেন পরিষেবা থেকে আয় হয়েছিল ৩৫৮.৬০ লক্ষ টাকা। সেই তুলনায় চলতি বছরের মে মাসে প্রায় ৩৭ লক্ষ টাকারও বেশি অতিরিক্ত আয় হয়েছে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে স্পষ্টভাবে বেড়েছে পর্যটকদের আগ্রহ এবং যাত্রীসংখ্যা, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে রাজস্ব বৃদ্ধিতে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের এক আধিকারিক জানান, গ্রীষ্মকালীন পর্যটন মরশুমেই মূলত এই সাফল্য এসেছে। বিশেষ করে দেশের বিভিন্ন রাজ্য ছাড়াও বিদেশি পর্যটকদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি দেখা গিয়েছে দার্জিলিং এবং কার্শিয়াং রুটে। অনেক পর্যটক শুধুমাত্র টয় ট্রেন যাত্রার অভিজ্ঞতা নিতে পাহাড়ে আসছেন বলেও জানান তিনি।
ডিএইচআর কর্তৃপক্ষ আরও আশাবাদী যে, এই সাফল্যের ধারা শুধুমাত্র মে মাসেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। জুন মাসেও পর্যটকদের ভালো সাড়া মিলবে এবং রাজস্ব আয়ের এই উর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই গ্রীষ্মের ছুটির মরশুমে পর্যটন বুকিং বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের এই সাফল্যের পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে। প্রথমত, হেরিটেজ টয় ট্রেনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং ইউনেস্কো স্বীকৃতি পর্যটকদের মধ্যে আলাদা আকর্ষণ তৈরি করেছে।
দ্বিতীয়ত, সাম্প্রতিক সময়ে পর্যটন পরিষেবার উন্নয়ন, অনলাইন বুকিং ব্যবস্থা সহজীকরণ এবং প্রচারমূলক উদ্যোগ পর্যটকদের আরও বেশি করে আকৃষ্ট করেছে।
স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরাও এই সাফল্যে খুশি। তাদের মতে, টয় ট্রেনের জনপ্রিয়তা বাড়ায় হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং স্থানীয় বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। পর্যটকদের ভিড় বাড়ায় অনেকের আয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে।একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী জানান, “টয় ট্রেন এখন শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়, এটা একটা অভিজ্ঞতা। পর্যটকরা এই অভিজ্ঞতার জন্যই দার্জিলিং আসছেন, আর তার প্রভাব আমরা সরাসরি দেখতে পাচ্ছি।”
সব মিলিয়ে বলা যায়, দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের এই রেকর্ড আয় শুধু একটি আর্থিক সাফল্য নয়, বরং উত্তরবঙ্গের পর্যটন শিল্পের জন্যও এক বড় ইতিবাচক বার্তা। পর্যটনের এই ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকলে আগামী দিনে আরও বড় সাফল্যের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি সৌন্দর্য, ঐতিহ্যবাহী টয় ট্রেন এবং পর্যটকদের ভালোবাসা—সব মিলিয়েই যেন নতুন করে ইতিহাস গড়ছে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে।
