অবশেষে বকেয়া এক মাসের বেতন মেটানোয় কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে কাজে ফিরলেন জলপাইগুড়ি পুরসভার সাফাই কর্মীরা। গত কয়েকদিন ধরে বেতন বকেয়া থাকার প্রতিবাদে কর্মবিরতিতে সামিল হয়েছিলেন পুরসভার সাফাই কর্মীরা। তাঁদের এই আন্দোলনের জেরে জলপাইগুড়ি শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে আবর্জনা ও জঞ্জাল জমে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছিল। তবে বুধবার বকেয়া এক মাসের বেতন প্রদান করা হলে আন্দোলন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন সাফাই কর্মীরা।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই তাঁরা কাজে যোগ দেওয়ায় শহরের স্বাভাবিক পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থা ফের চালু হয়েছে। এতে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন শহরের বাসিন্দারা।
জলপাইগুড়ি পুরসভার অধীনে প্রতিদিন শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়। শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন সাফাই কর্মীরা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বেতন বকেয়া থাকার কারণে তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছিল। অবশেষে বকেয়া বেতন দ্রুত মেটানোর দাবিতে তাঁরা কর্মবিরতির পথে হাঁটেন। এর ফলে শহরের দৈনন্দিন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ কার্যত থমকে যায়।
কর্মবিরতির জেরে জলপাইগুড়ি শহরের বিভিন্ন রাস্তা, বাজার এলাকা, আবাসিক অঞ্চল এবং গুরুত্বপূর্ণ জনবহুল স্থানে আবর্জনার স্তূপ জমতে শুরু করে। নির্দিষ্ট সময়ে ময়লা না তোলায় ডাস্টবিন উপচে পড়ে এবং অনেক জায়গায় রাস্তার ধারে বর্জ্য ছড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এতে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষণের আশঙ্কা বাড়ছিল, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও চরমে পৌঁছায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ ছিল, কয়েকদিন ধরে ময়লা পরিষ্কার না হওয়ায় দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠতে হচ্ছিল। বিশেষ করে বাজার ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে উঠেছিল। গরম ও বর্ষার আবহাওয়ায় জমে থাকা আবর্জনা থেকে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল। ফলে দ্রুত সমস্যার সমাধানের দাবি উঠেছিল বিভিন্ন মহল থেকে।
সাফাই কর্মীদের দাবি, তাঁরা নিয়মিতভাবে কঠোর পরিশ্রম করলেও সময়মতো বেতন না পাওয়ার কারণে সংসার চালাতে চরম সমস্যার মুখে পড়ছিলেন। অনেক কর্মীই জানিয়েছেন, পরিবারের দৈনন্দিন খরচ, সন্তানদের পড়াশোনা, চিকিৎসা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে তাঁদের হিমশিম খেতে হচ্ছিল। তাই বকেয়া বেতন মেটানোর দাবিতে আন্দোলন ছাড়া অন্য কোনো পথ খোলা ছিল না।
আন্দোলনের সময় সাফাই কর্মীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, বকেয়া বেতন না পাওয়া পর্যন্ত তাঁরা কাজে ফিরবেন না। তাঁদের এই অবস্থানের ফলে শহরের পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কর্মীদের একাধিক দফায় আলোচনা হয়। শেষ পর্যন্ত বুধবার বকেয়া এক মাসের বেতন প্রদান করা হলে অচলাবস্থা কাটতে শুরু করে।
বেতন হাতে পাওয়ার পর সাফাই কর্মীরা কর্মবিরতি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন। বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই তাঁরা ফের কাজে নেমে পড়েন। শহরের বিভিন্ন এলাকায় জমে থাকা আবর্জনা দ্রুত সরানোর কাজ শুরু হয়। পুরসভার ট্রাক্টর ও অন্যান্য বর্জ্যবাহী যানবাহন নিয়ে কর্মীরা শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েন। কয়েকদিনের জমে থাকা বর্জ্য অপসারণে জোরকদমে কাজ শুরু হয়।
সাফাই কর্মীদের একাংশ জানান, তাঁরা আন্দোলন করতে চাননি। কিন্তু বেতন না পাওয়ায় বাধ্য হয়েই কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল। বকেয়া বেতন মিটে যাওয়ায় তাঁরা খুশি এবং এখন শহরকে দ্রুত পরিষ্কার করার কাজে মন দিয়েছেন। ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেই দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।
অন্যদিকে, পুরসভার বর্জ্য পরিবহণের কাজে যুক্ত ট্রাক্টর চালকরাও কর্মীদের পাশে ছিলেন। তাঁদের বক্তব্য, সাফাই কর্মী ও চালকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই শহরের পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থা সচল থাকে। তাই সময়মতো বেতন প্রদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বেতন সংক্রান্ত সমস্যা মিটে যাওয়ায় তাঁরা স্বাভাবিক কাজকর্মে ফিরতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযানের চিত্র দেখা যায়। দীর্ঘদিন জমে থাকা আবর্জনা দ্রুত অপসারণের জন্য অতিরিক্ত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বেশ কয়েকটি এলাকায় একাধিক গাড়ি মোতায়েন করে ময়লা সংগ্রহের কাজ চালানো হয়। কর্মীরাও দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে অতিরিক্ত সময় কাজ করছেন।
শহরবাসীর একাংশ জানিয়েছেন, গত কয়েকদিন ধরে আবর্জনার কারণে তাঁরা যথেষ্ট সমস্যার মধ্যে ছিলেন। বিশেষ করে বাজার এলাকা ও জনবহুল রাস্তাগুলিতে দুর্গন্ধ এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। সাফাই কর্মীরা কাজে ফেরায় তাঁরা স্বস্তি পেয়েছেন। একইসঙ্গে কর্মীদের ন্যায্য দাবি দ্রুত মেটানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেছেন অনেকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি শহরের স্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় রাখতে পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাফাই কর্মীদের কাজ থমকে গেলে তার প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর পড়ে। তাই এই ধরনের পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি।
জলপাইগুড়ি শহরে বর্তমানে জমে থাকা আবর্জনা দ্রুত সরিয়ে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার কাজ চলছে। পুরসভার কর্মীদের আশা, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই শহরের সমস্ত এলাকা সম্পূর্ণভাবে পরিষ্কার করে ফেলা সম্ভব হবে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে বেতন সংক্রান্ত সমস্যা যাতে আর না হয়, সেই বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন কর্মীরা।
সব মিলিয়ে, বকেয়া এক মাসের বেতন মেটানোর পর সাফাই কর্মীদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার এবং কাজে ফেরা জলপাইগুড়ি শহরের জন্য বড় স্বস্তির খবর। কয়েকদিনের অচলাবস্থার পর ফের সচল হয়েছে শহরের পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থা।
কর্মীদের ন্যায্য দাবির আংশিক সমাধান যেমন হয়েছে, তেমনই শহরবাসীও আবর্জনার সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে শুরু করেছেন। এখন নজর থাকবে, ভবিষ্যতে যাতে বেতন সংক্রান্ত জটিলতার কারণে আবারও এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়।
