দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ এবং ভারতীয় জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর ৭৪তম আত্মবলিদান দিবস উপলক্ষে সোমবার মালদা শহরে তাঁকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হল। দিনটি উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলের উদ্যোগে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মালদা শহরের পোস্ট অফিস মোড়ে অবস্থিত ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর পূর্ণাবয়ব মূর্তির পাদদেশে মাল্যদান ও পুষ্পার্ঘ অর্পণের মাধ্যমে তাঁকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি দক্ষিণ মালদা সাংগঠনিক জেলার নেতৃত্ব, দলের কর্মী-সমর্থকরা এবং বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধিরা। পাশাপাশি ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরীও উপস্থিত হয়ে প্রয়াত এই জাতীয় নেতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
সকালের দিকে থেকেই পোস্ট অফিস মোড় এলাকায় কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। নির্ধারিত সময়ে নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্টজনেরা একে একে এসে ডঃ মুখার্জীর মূর্তিতে মাল্যদান করেন। ফুলেল শ্রদ্ধার্ঘ্যের মধ্য দিয়ে তাঁর প্রতি সম্মান জানানো হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর জীবনাদর্শ, দেশের প্রতি তাঁর অবদান এবং জাতীয়তাবাদী চিন্তাধারার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী ভারতের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে ডঃ মুখার্জীর অবদান আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। দেশের অখণ্ডতা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে তিনি যে আদর্শ রেখে গিয়েছেন, তা বর্তমান প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে রয়েছে।
বিজেপি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী শুধুমাত্র একজন রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন দূরদর্শী চিন্তাবিদ ও শিক্ষাবিদ। দেশের উন্নয়ন, জাতীয় ঐক্য এবং সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ রক্ষার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয়। তাঁর আত্মত্যাগ দেশের গণতান্ত্রিক চেতনা এবং জাতীয় সংহতির ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়। সেই কারণেই প্রতি বছর তাঁর আত্মবলিদান দিবস যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে পালন করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকেই হাতে ফুল নিয়ে এসে মূর্তির পাদদেশে অর্পণ করেন। কেউ কেউ ডঃ মুখার্জীর জীবনের বিভিন্ন ঘটনা স্মরণ করে তাঁর আদর্শকে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। তাঁদের মতে, বর্তমান সময়ে দেশের যুব সমাজকে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর জীবন ও কর্ম সম্পর্কে আরও বেশি করে জানানো প্রয়োজন। তাঁর দেশপ্রেম, আত্মত্যাগ এবং দায়িত্ববোধ সমাজের প্রতিটি মানুষের কাছে শিক্ষণীয়।
এদিনের কর্মসূচিতে উপস্থিত বিজেপি দক্ষিণ মালদার সাংগঠনিক নেতৃত্ব ডঃ মুখার্জীর আত্মত্যাগের তাৎপর্য তুলে ধরেন। তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে, দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রশ্নে তিনি যে অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন, তা ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। দেশের স্বার্থকে সর্বাগ্রে রেখে তিনি যে সংগ্রাম চালিয়েছিলেন, তা আজও রাজনৈতিক মহলে আলোচিত হয়। বক্তারা আরও বলেন, তাঁর চিন্তাধারা এবং আদর্শ অনুসরণ করেই দেশের উন্নয়ন ও জাতীয় ঐক্যের লক্ষ্যে এগিয়ে চলার প্রয়োজন রয়েছে।
অন্যদিকে ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরীও ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর মূর্তিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসে ডঃ মুখার্জীর অবদান অনস্বীকার্য। রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে তাঁর জীবন ও কর্মকে মূল্যায়ন করা উচিত। একজন শিক্ষাবিদ, সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা এবং জাতীয় নেতা হিসেবে তিনি যে ভূমিকা পালন করেছেন, তা আগামী দিনেও স্মরণীয় হয়ে থাকবে। দেশের জন্য তাঁর আত্মত্যাগ সর্বদা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠান ঘিরে এলাকায় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি বিভিন্ন বক্তা তাঁর কর্মজীবনের নানা দিক তুলে ধরেন। স্বাধীন ভারতের প্রথম মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পালন, শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান এবং পরবর্তীকালে ভারতীয় জনসংঘ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিকল্প রাজনৈতিক দর্শনের পথপ্রদর্শক হিসেবে তাঁর ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়। বক্তারা বলেন, জাতীয় জীবনের নানা ক্ষেত্রে তাঁর অবদান ভারতীয় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
অনেক প্রবীণ নাগরিকও এদিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে, ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর মতো নেতাদের আদর্শ সমাজকে সঠিক পথ দেখাতে পারে। দেশের স্বার্থে আত্মত্যাগ এবং দায়িত্ববোধের যে দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছেন, তা বর্তমান প্রজন্মের কাছে অনুকরণীয়। তাঁরা বলেন, ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের স্মরণ করার মধ্য দিয়ে সমাজ নিজের শিকড়ের সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখতে পারে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়।
মালদা শহরের এই কর্মসূচিতে রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে বহু মানুষ অংশগ্রহণ করেন। শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি ডঃ মুখার্জীর জীবনাদর্শ নিয়ে আলোচনা হয়। উপস্থিত ব্যক্তিরা মনে করেন, দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা, সাংস্কৃতিক চেতনা এবং জাতীয় ঐক্যের প্রশ্নে তাঁর ভাবনা এখনও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। সেই কারণেই প্রতি বছর তাঁর আত্মবলিদান দিবস শুধু একটি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নয়, বরং তাঁর আদর্শকে স্মরণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হয়ে ওঠে।
দিনভর বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। মালদার পোস্ট অফিস মোড়ে তাঁর মূর্তির সামনে পুষ্পার্ঘ অর্পণ, মাল্যদান এবং স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এদিনের অনুষ্ঠান। উপস্থিত সকলেই তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং দেশের প্রতি তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করেন। ৭৪তম আত্মবলিদান দিবসে মালদা শহরে আয়োজিত এই কর্মসূচি ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং স্মৃতির বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই ধরা দিল।
