রায়গঞ্জে আটক প্রাক্তন কাউন্সিলার। নদোর বিরুদ্ধে ঠিক কি কি অভিযোগ ? এবার কি গ্রেফতার করা হবে অসীম অধিকারী ?
ভারত টিভি ডিজিটালঃ রায়গঞ্জের ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলার অসীম অধিকারী ওরফে নদোকে পুলিশ আটকের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে। রাজ্যজুড়ে যখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপের আলোচনা চলছে, ঠিক সেই সময়েই উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জে এই ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। বৃহস্পতিবার রায়গঞ্জ পৌরসভার ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলার তথা প্রাক্তন কো-অর্ডিনেটর অসীম অধিকারীকে পুলিশ আটক করেছে বলে জানা গিয়েছে। তবে ঠিক কোন অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার রায়গঞ্জ থানার পুলিশ অসীম অধিকারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায়। এরপর থেকেই খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে শহর জুড়ে। রাজনৈতিক কর্মী, সমর্থক এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা। দীর্ঘদিন ধরে রায়গঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত মুখ হিসেবে পরিচিত ছিলেন অসীম অধিকারী। এলাকার বাসিন্দাদের কাছে তিনি নদো নামেই বেশি পরিচিত। ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার হিসেবে একসময় তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। পরবর্তীকালে ওয়ার্ডের কো-অর্ডিনেটর হিসেবেও দায়িত্ব সামলেছেন।
পুলিশ সূত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো না হলেও বিভিন্ন মহলে দাবি করা হচ্ছে, তাঁর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছিল। জমি সংক্রান্ত বিবাদ, জমি বেদখলের অভিযোগ, স্থানীয় কিছু মানুষকে হুমকি দেওয়া এবং মারধরের মতো অভিযোগের কথাও শোনা যাচ্ছে। যদিও এই সমস্ত অভিযোগের সত্যতা এখনও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি। তদন্ত চলার কারণেই পুলিশ এখনই বিস্তারিত কিছু জানাতে চাইছে না বলে মনে করা হচ্ছে।
এই ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির একাংশ দাবি করেছে, একজন প্রাক্তন জনপ্রতিনিধিকে পুলিশ আটক করেছে যখন, তখন ঘটনার সমস্ত দিক জনগণের সামনে তুলে ধরা উচিত। অন্যদিকে শাসকদলের স্থানীয় নেতৃত্বের একটি অংশের বক্তব্য, আইন নিজের পথে চলবে এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, আর অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে সেটিও তদন্তেই স্পষ্ট হয়ে যাবে।
রায়গঞ্জের সাধারণ মানুষের মধ্যেও ঘটনাটি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, যদি কারও বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে তাহলে প্রশাসনের তদন্ত করাই স্বাভাবিক। শহরের বিভিন্ন চায়ের দোকান, ব্যবসায়িক কেন্দ্র এবং সামাজিক পরিসরে এই ঘটনাই এখন আলোচনার প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে।
এক স্থানীয় বাসিন্দার কথায়, “পুলিশ নিশ্চয়ই কোনও তথ্য বা অভিযোগের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ করেছে। তবে কী কারণে আটক করা হয়েছে সেটা প্রশাসনের তরফে জানানো হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে তা অনেকটাই দূর হবে।” অন্য এক বাসিন্দা বলেন, “তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় স্তরে দুর্নীতির র্যাকেট চালাচ্ছিলেন। যেটা পুলিশ করেছে সঠিক করেছে।”
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যজুড়ে দুর্নীতি এবং বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপের যে ধারা দেখা যাচ্ছে, রায়গঞ্জের ঘটনাও সেই প্রেক্ষাপটে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত, জিজ্ঞাসাবাদ এবং আইনি পদক্ষেপের খবর সামনে এসেছে। সেই পরিস্থিতিতে একজন প্রাক্তন কাউন্সিলারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা স্বাভাবিকভাবেই জনমনে কৌতূহল তৈরি করবে।
অসীম অধিকারী দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কখনো কংগ্রেস, তারপর তৃণমূল কংগ্রেস, পরবর্তীতে বিজেপিতে যোগ দেন, আবারও ফেরেন তৃণমূলে। দলে থেকে দলেরই কর্মীদের একাংশের সাথেও খারাপ ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। ফলে তাঁর আটক হওয়ার খবর সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলের পাশাপাশি তাঁর পরিচিত মহলেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই জানতে চাইছেন, তদন্তের পরবর্তী ধাপ কী হতে চলেছে এবং পুলিশের কাছে কী ধরনের তথ্য রয়েছে। যদিও এই প্রশ্নগুলির উত্তর এখনও মেলেনি।
প্রশাসনের তরফে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এই ঘটনার প্রকৃত কারণ নিয়ে নানা জল্পনা চলতেই থাকবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাঁদের মতে, দ্রুত সরকারি বিবৃতি সামনে এলে পরিস্থিতি অনেকটাই স্পষ্ট হবে। কারণ বর্তমানে তথ্যের অভাবেই নানা ধরনের অনুমান এবং গুঞ্জন তৈরি হচ্ছে।
এদিকে রায়গঞ্জ থানার গতিবিধির উপর নজর রাখছেন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও। তদন্তের অগ্রগতি, সম্ভাব্য অভিযোগ এবং পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে সকলেরই কৌতূহল রয়েছে। প্রশাসন কবে আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খুলবে, সেই দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছেন সাধারণ মানুষ।
ঘটনার পর থেকেই রায়গঞ্জের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। স্থানীয় স্তরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সকলেই তদন্ত সম্পূর্ণ হওয়ার অপেক্ষা করার পক্ষে মত দিয়েছেন। কারণ প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হলে তা বিভ্রান্তির কারণ হতে পারে।
বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল পুলিশের তদন্ত। তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে, কী ধরনের অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায় এবং প্রশাসন পরবর্তী সময়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার উপরই নির্ভর করবে এই ঘটনার ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি। আপাতত প্রাক্তন কাউন্সিলার অসীম অধিকারী ওরফে নদোকে পুলিশ আটকের ঘটনায় রায়গঞ্জ জুড়ে চর্চা তুঙ্গে। প্রশাসনের পরবর্তী সরকারি বিবৃতি এবং তদন্তের অগ্রগতির দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের।
