“থ্রেট কালচারের শিকার হয়েছি”। তৃণমুলের গুন্ডা বাহীনি ২৪ ঘন্টা ঘেরাও করে রেখছিল। তারপরও শিরদাড়া সোজা রেখেছি। সব ফাইল রাজ্য সরকারের কাছে পাঠিয়ে দেবো।”-দীপক কুমার রায়।
[ভারত টিভিতে অ্যাঙ্কার ও রিপোর্টার হিসেবে কাজে আগ্রহী যুবক যুবতীরা যোগাযোগ করুন-03523 451247 এই নম্বরে]
ভারত টিভি ডিজিটালঃ আরজি কর-কাণ্ডের পর থেকেই রাজ্যে ‘থ্রেট কালচার’ বা হুমকি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন বিভিন্ন মহলের মানুষ। এবার সেই একই অভিযোগ তুলে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করলেন রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য দীপক কুমার রায়। তাঁর দাবি, উপাচার্য পদে থাকাকালীন স্রেফ দুর্নীতির বিরুদ্ধে মুখ খোলার অপরাধে তাঁকে তৎকালীন শাসকদলের চরম হেনস্থা ও হুমকির শিকার হতে হয়েছিল। এমনকি, তৃণমূলের ‘গুন্ডাবাহিনী’ তাঁকে রাতভর আটকে রেখে মানসিক নির্যাতন চালিয়েছিল বলেও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
প্রাক্তন উপাচার্যের এই বিস্ফোরক মন্তব্যে স্বভাবতই চরম অস্বস্তিতে পড়েছে রাজ্যের শাসকদল। দীপকবাবুর স্পষ্ট বক্তব্য, “আমি নিত্যদিন থ্রেট কালচারের শিকার হয়েছি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হওয়াতেই আমাকে অন্যায়ভাবে চাপে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু আমি মাথা নত করিনি, নিজের শিরদাঁড়া সোজা রেখেছি।”
### রাতভর আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে প্রাক্তন উপাচার্য দীপক কুমার রায় তাঁর তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নেন। তিনি জানান, রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় ক্যাম্পাসের ভেতরে চলা নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তিনি কড়া অবস্থান নিয়েছিলেন। আর তাতেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে স্থানীয় শাসকদলের একাংশ। তাঁর অভিযোগ, এক রাতে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাঁকে ঘেরাও করে এবং সারারাত আটকে রেখে হুমকি দিতে থাকে। উদ্দেশ্য ছিল একটাই—তাঁকে ভয় দেখিয়ে বশ করা এবং দুর্নীতি ঢাকার রাস্তা পরিষ্কার করা।
“ওরা ভেবেছিল ভয় দেখালে আমি অন্যায় মেনে নেব। কিন্তু আমি শিক্ষাক্ষেত্রের পবিত্রতা নষ্ট হতে দিইনি।”
> — **দীপক কুমার রায়, প্রাক্তন উপাচার্য**
আরও কি বললেন দীপক কুমার রায়, দেখুন –
### নবান্নে যাচ্ছে দুর্নীতির খতিয়ান
শুধুমাত্র অভিযোগের আঙুল তুলেই ক্ষান্ত থাকছেন না দীপকবাবু। তিনি জানিয়েছেন, উপাচার্য থাকাকালীন রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে আর্থিক অনিয়ম থেকে শুরু করে প্রশাসনিক স্তরে যা যা দুর্নীতি তাঁর নজরে এসেছিল, তার সমস্ত প্রমাণ ও ফাইল তিনি গুছিয়ে রেখেছেন। খুব শীঘ্রই এই সব দুর্নীতির খতিয়ান ও ফাইল তিনি বর্তমান রাজ্য সরকারের শীর্ষমহলে (নবান্নে) পাঠাবেন বলে দাবি করেছেন।
তৃণমূল নেতৃত্বের পক্ষ থেকে অবশ্য এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে দীপকবাবুর এই ‘শিরদাঁড়া সোজা’ রাখার বার্তা এবং ফাইল পাঠানোর হুঁশিয়ারি আগামী দিনে শিক্ষা রাজনীতিতে নতুন কোনো ঝড় তোলে কি না, সেটাই এখন দেখার।
