ভারত টিভি ডিজিটালঃ রাম রাজত্বের শুরু উত্তর দিনাজপুর থেকেই। সিমেন্ট দিয়ে সিল করে দিয়েছিলো টয়লেট, ঘরছাড়া প্রায় ৩ বছর। অবশেষে বিজেপি বিধায়কের হাত ধরে বাড়ি ফিরলেন বিহীনগরের সংখ্যালঘু পরিবার। সামিম আখতারকে বাড়ি নিয়ে গেলেন বিধায়ক বিরাজ বিশ্বাস। কি ঘটেছিলো সেদিন, জানুন।
আরও দেখুন –
তিন বছর পর ঘরে ফেরা সংখ্যালঘু পরিবার, বিজেপি বিধায়কের উপস্থিতিতে করণদিঘিতে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে
দীর্ঘ তিন বছর ঘরছাড়া থাকার পর অবশেষে নিজের বাড়িতে ফিরলেন করণদিঘির বিহিনগর গ্রামের বাসিন্দা সামিম আখতার ও তাঁর পরিবার। রবিবার করণদিঘি থানার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তায় তাঁদের ঘরে ফেরানো হয়। গোটা ঘটনায় নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে উত্তর দিনাজপুরে।
জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালে এলাকায় রাজনৈতিক সংঘর্ষের জেরে সামিম আখতার তৃণমূল কংগ্রেস আশ্রিত দুষ্কৃতীদের হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ। প্রাণভয়ে পরিবার নিয়ে বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন তিনি। পরবর্তীতে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে কিছুদিনের জন্য বাড়ি ফিরলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি বলে দাবি পরিবারের।
অভিযোগ, সেই সময় দুষ্কৃতীরা তাঁর বাড়ির আসবাবপত্র ও মূল্যবান সামগ্রী লুঠ করে নেয়। শুধু তাই নয়, বাড়ির জলের সংযোগ কেটে দেওয়া হয় এবং টয়লেটে কংক্রিট ঢেলে সিল করে দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে আবারও পরিবার নিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন সামিম আখতার।
এদিকে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসতেই পরিস্থিতির বদল ঘটেছে বলে দাবি গেরুয়া শিবিরের। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে রাজ্যে “আইনের শাসন” প্রতিষ্ঠার বার্তা দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি বিজেপি নেতৃত্বের।
রবিবার করণদিঘির বিজেপি বিধায়ক বিরাজ বিশ্বাস নিজে উপস্থিত থেকে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সহায়তায় সামিম আখতার ও তাঁর পরিবারকে বাড়িতে ফেরান। দীর্ঘদিন পর নিজের ভিটেমাটিতে ফিরতে পেরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সামিম। তিনি বলেন, “তিন বছর ধরে আতঙ্কে দিন কেটেছে। আজ আবার নিজের ঘরে ফিরতে পেরে মনে হচ্ছে নতুন জীবন পেলাম।”
বিজেপি বিধায়ক বিরাজ বিশ্বাস দাবি করেন, “রাজ্যে এখন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কোনো সাধারণ মানুষকে রাজনৈতিক কারণে ঘরছাড়া হয়ে থাকতে হবে না। প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে এবং সামিম আখতার ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তার সমস্ত দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে।”
যদিও এই ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের মতে, এই ঘরে ফেরা শুধু একটি পরিবারের প্রত্যাবর্তন নয়, বরং এলাকার বদলে যাওয়া রাজনৈতিক সমীকরণেরও বড় ইঙ্গিত।
