ভারত টিভি ডিজিটাল: সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা তোলার অভিযোগে অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন ইটাহার ব্লক তৃণমূল সভাপতি তথা উত্তর দিনাজপুর জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ কার্তিকচন্দ্র দাস। শাসকদলের এক প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগ ঘিরে জেলায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বিস্তারিত দেখুন – PLS SUBSCRIBE
অভিযোগকারী কুরবান আলি, ইটাহার থানার লালগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা। তাঁর অভিযোগ, কৃষিকাজের সুবিধার জন্য সরকারি প্রকল্পের আওতায় জমিতে সোলার পাম্প বসিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন কার্তিকচন্দ্র দাস। সেই প্রতিশ্রুতির আড়ালে ধাপে ধাপে তাঁর কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা আদায় করা হয়। কিন্তু টাকা নেওয়ার পর মাসের পর মাস কেটে গেলেও বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি, মেলেনি সরকারি প্রকল্পের কোনো সুবিধাও।
শুধু তাই নয়, অভিযোগকারীর দাবি, টাকা ফেরতের দাবিও বারবার এড়িয়ে যান অভিযুক্ত নেতা। একসময় কার্যত বাধ্য হয়েই শনিবার ইটাহার থানার দ্বারস্থ হন কুরবান আলি। লিখিত অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরই নড়েচড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন।
তদন্তে নেমে শনিবার গভীর রাতে চূড়ামণ এলাকার নিজ বাড়ি থেকে কার্তিকচন্দ্র দাসকে গ্রেপ্তার করে ইটাহার থানার পুলিশ। রবিবার তাঁকে রায়গঞ্জ মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হলে বিচারক এক দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।
আদালতে সরকারি আইনজীবী নীলাদ্রি সরকার জানান, সরকারি প্রকল্পে পাম্প সেট পাইয়ে দেওয়ার নামে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগের ভিত্তিতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে অভিযুক্তকে। পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
এই ঘটনায় রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিরোধীদের কটাক্ষ, “সরকারি প্রকল্প এখন সাধারণ মানুষের অধিকার নয়, শাসকদলের কিছু নেতার রোজগারের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।” যদিও তৃণমূলের জেলা নেতৃত্ব এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় মুখ খোলেনি।
পুলিশ সূত্রে খবর, শুধু একজন নয়, আরও একাধিক ব্যক্তি একইভাবে প্রতারিত হয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের অনুমান, সামনে আরও বিস্ফোরক তথ্য উঠে আসতে পারে। সরকারি প্রকল্পের নামে টাকা তোলার এই অভিযোগে জেলায় শাসকদলের ভাবমূর্তিও বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে।