পণের বকেয়া টাকা না দেওয়ায় বিয়ের দেড় বছরের মাথায় ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা বধূকে গলা টিপে খুন করার অভিযোগ উঠল স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজনদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেফতার করেছে হেমতাবাদ থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতের নাম বাবলু রায় বাড়ি হেমতাবাদ থানার সমসপুর সংলগ্ন শীতলপুর এলাকায়। ধৃতের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার আইনের ৮৫/৮০/৩০৫ ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। এদিন বিকেলে তিনটে নাগাদ ধৃতকে রায়গঞ্জ মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হলে বিচারক ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, দেড় বছর আগে হেমতাবাদ থানার সমসপুর সংলগ্ন শীতলপুরের বাসিন্দা বাবলু রায়ের সঙ্গে হেমতাবাদ থানার টিটিহি গ্রামের বাসিন্দা লক্ষী রায়ের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় যৌতুক সামগ্রী দেওয়ার পাশাপাশি তিন লক্ষ টাকার মধ্যে দুই লক্ষ টাকা দেওয়া হয়। এক লক্ষ টাকা বকেয়া রাখা হয়। সেই টাকা দিতে না পারায় গতকাল বিকেলে ৬ মাসের অন্তঃসত্তা বধুকে গলা টিপে খুন করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন। তাদের মধ্যে স্বামী বাবলু রায় কে ধরে ফেলে গ্রামবাসীরা।
এরপর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে সমস্ত বিষয়টি গ্রামের বাসিন্দাদের জানালে শুরু হয় গণধোলাই। খবর যায় হেমতাবাদ থানায় পুলিশ অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেফতার করার পাশাপাশি ওই বধুর ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার করে হেমতাবাদ গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। এরপর মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
এদিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার বিকেল চারটা নাগাদ পুলিশি ক্যামেরাম্যান ময়নাতদন্তের চিকিৎসক ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশ অফিসারের উপস্থিতিতে মৃতদেহ ময়নাতদন্তের পর পরিবারের হাতে তুলে দেয় রায়গঞ্জ থানার পুলিশ। হেমতাবাদ থানায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে মৃত গৃহবধূর বাবা পলাশ রায় বলেন,বিয়ের সময় আসবাবপত্র এক ভরি সোনা, দেড় ভরি রুপা নগর দুই লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছিল। ছেলে পক্ষ তিন লক্ষ টাকা দাবি করেছিল। আমি ২ লক্ষ টাকা দিয়েছিলাম এক লক্ষ টাকা বকেয়া রাখা হয়েছিল। সেই বকেয়া টাকা নিয়েই যাবতীয় গন্ডগোলের সূত্রপাত। আমি বলেছিলাম এই বছর ভুট্টা সহ ফসল বিক্রি করে বাকি বকেয়া টাকা পরিশোধ করে দেব। কিন্তু তার আগেই আমার মেয়েকে শ্বাসরোধ করে খুন করেছে আমার জামাই সহ তিনজন। আমি চাই অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।”
মৃতবধূর দাদা স্বপন রায় বলেন,
