তীব্র দাবদাহে বড় সিদ্ধান্ত রাজ্যের,
ক্রমেই বাড়ছে উত্তাপ,
শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তায় রাজ্য
আগামী দু’সপ্তাহ সকালে চলবে স্কুল
ভারত টিভি ডিজিটালঃ রাজ্য জুড়ে ক্রমশ বাড়ছে তাপমাত্রার পারদ। দিনের পর দিন তীব্র দাবদাহ ও অস্বস্তিকর গরমে নাজেহাল সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে স্কুলপড়ুয়া শিশু-কিশোরদের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে এবার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। রাজ্যের সমস্ত প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত আগামী দু’সপ্তাহ সকালে পঠন-পাঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্কুল শিক্ষা দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রবল গরম ও তাপপ্রবাহের কারণে ছাত্রছাত্রীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দিনের বেলায় অত্যধিক তাপমাত্রা শিশুদের শারীরিক অসুস্থতার কারণ হতে পারে বলেই মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও। সেই পরিস্থিতি বিবেচনা করেই এই বিশেষ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
আরো বিস্তারিত জানুন –
ইতিমধ্যেই স্কুল শিক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে রাজ্যের প্রতিটি জেলার বিদ্যালয় পরিদর্শক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। সেই নির্দেশ অনুযায়ী আগামী দু’সপ্তাহ সমস্ত সরকারি, সরকার পোষিত এবং সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলে সকালবেলার শিফটে ক্লাস নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রতিটি স্কুলকে স্থানীয় পরিস্থিতি অনুযায়ী সময়সূচি নির্ধারণেরও অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা দফতরের এক আধিকারিক জানান, সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে অনেকটাই বেশি রয়েছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী কয়েকদিনেও গরমের তীব্রতা কমার সম্ভাবনা নেই। ফলে স্কুল চলাকালীন সময়ে পড়ুয়াদের রোদে যাতায়াত ও দীর্ঘ সময় শ্রেণিকক্ষে থাকার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। সেই কারণেই এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অভিভাবকদের একাংশ রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, ছোট ছোট ছাত্রছাত্রীদের স্বাস্থ্যের সুরক্ষা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সকালবেলায় স্কুল হলে তুলনামূলকভাবে কম গরমের মধ্যে পড়ুয়ারা বিদ্যালয়ে যেতে পারবে এবং অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকিও কমবে।
অন্যদিকে বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনও এই সিদ্ধান্তকে সময়োপযোগী বলে উল্লেখ করেছে। তাঁদের বক্তব্য, বর্তমান আবহাওয়ার পরিস্থিতিতে ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থেই এমন উদ্যোগ প্রয়োজন ছিল। তবে সকালবেলার ক্লাস পরিচালনার ক্ষেত্রে পরিবহণ ও অন্যান্য প্রশাসনিক বিষয়গুলি যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, সেদিকেও নজর রাখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে গ্রীষ্মকালে একাধিকবার তাপপ্রবাহের কারণে স্কুলের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এবারও একইভাবে পড়ুয়াদের স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে শিক্ষা দফতর।
এখন নজর আবহাওয়ার দিকে। আগামী দিনগুলিতে গরমের পরিস্থিতির উন্নতি হলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সূত্রের খবর। আপাতত আগামী দু’সপ্তাহ সকালেই চলবে রাজ্যের সমস্ত প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়ের পঠন-পাঠন।
উত্তরের আবহাওয়া-
