নজরুল মঞ্চে উন্নয়নের জয়গান, মহিলাদের নেতৃত্বে তৃণমূলের ‘পাঁচালি’ অভিযান
মহিলা নেতৃত্বে রাজ্যজুড়ে উন্নয়নের বার্তা পৌঁছবে: তৃণমূল
ছন্দে ছন্দে উন্নয়নের কথা, নজরুল মঞ্চে তৃণমূলের পাঁচালি
ভারত টিভি ডিজিটাল ডেস্ক : কলকাতা: সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের মহিলা নেতৃত্বাধীন প্রচার অভিযান ‘উন্নয়নের পাঁচালি’-র এক বর্ণাঢ্য ও আবেগঘন উপস্থাপনা অনুষ্ঠিত হল মঙ্গলবার নজরুল মঞ্চে। রাজ্যের শাসক দলের উন্নয়নমূলক কর্মসূচির ১৫ বছরের যাত্রাপথকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ৩,৫০০-রও বেশি মহিলা কর্মী ও নেত্রী।
ঠাসা প্রেক্ষাগৃহে উপস্থিত প্রত্যেক মহিলার হাতে তুলে দেওয়া হয় ‘উন্নয়নের পাঁচালি’-র একটি করে কপি। এরপর পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উন্নয়নের কাহিনি ছন্দে ছন্দে একসঙ্গে পাঠ শুরু করতেই গোটা নজরুল মঞ্চ মুখরিত হয়ে ওঠে উন্নয়নের জয়ধ্বনিতে। এই অভিনব উপস্থাপনা কার্যত দলীয় কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সঞ্চার করে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী ও তৃণমূলের বরিষ্ঠ নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শশী পাঁজা, মালা রায়, বীরবাহা হাঁসদা, জ্যোৎস্না মাণ্ডি, সাবিনা ইয়াসমিন-সহ দলের একাধিক অভিজ্ঞ মহিলা নেত্রী।
আগামী দিনের কর্মসূচির রূপরেখা তুলে ধরে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানান, জেলা সভাপতিদের নেতৃত্বে ১৭ থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চলবে। তিনি বলেন, “২১ ডিসেম্বর থেকে ২০ জানুয়ারি—এই ৩০ দিনের মধ্যে তৃণমূল স্তরে উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দিতে প্রতিটি বুথে ন্যূনতম তিনটি করে সভা বা বৈঠক আয়োজন করতে হবে।”
তিনি আরও জানান, ২২ জানুয়ারি প্রতিটি জেলায় রাজ্য স্তরের সমাবেশ এবং ২৫ জানুয়ারি জেলা সম্মেলনের আয়োজন করা হবে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী শশী পাঁজা রাজ্য সরকারের নারী-কেন্দ্রিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির উপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, “কন্যাশ্রী প্রকল্প” আন্তর্জাতিক স্তরে স্বীকৃতি পেয়েছে। স্কুল থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত মেয়েদের পাশে থেকেছে এই সরকার।”
পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, তৃণমূল কংগ্রেস ক্রমাগতভাবে নির্বাচনে বেশি সংখ্যক মহিলা প্রার্থীকে সুযোগ দিয়েছে এবং তাঁদের বড় অংশই নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন।
অন্যান্য বক্তারাও গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে ব্লক ও জেলা স্তরে মহিলা জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে, উন্নয়নের বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে মহিলা প্রধান ও কর্মীদের ভূমিকা আগামী দিনে আরও গুরুত্বপূর্ণ হবে।
সব মিলিয়ে, ‘উন্নয়নের পাঁচালি’ কর্মসূচি রাজ্যজুড়ে এক সুদূরপ্রসারী প্রচার অভিযানের সুর বেঁধে দিল। যেখানে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ১৫ বছরের উন্নয়নের আখ্যান পৌঁছে দিতে রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে সামনের সারিতে থাকবেন তৃণমূলের মহিলা কর্মী ও নেত্রীরা। এই উদ্যোগ তৃণমূল কংগ্রেসের সংগঠনিক সংহতি এবং নারী-নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের উপর দলের জোরকেই আরও একবার স্পষ্ট করে তুলল।
