নিজস্ব প্রতিনিধি, ইটাহার || SIR শুনানি কেন্দ্রে ভাংচুর কান্ডে অভিযুক্তদের বীরের সংবর্ধনা তৃণমুলের ! এমনই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় রিতিমত ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ালো উত্তর দিনাজপুরের রাজনীতিতে। বিশেষত ইটাহারের তৃণমুল বিধায়ক মোশারফ হোসেন ঘটনার দিন অভিযুক্তদের শাসকদলের সঙ্গে সম্পর্ক নেই বলে দাবী করলেও বুধবার তাদেরই মালা পড়িয়ে বরণ করে নেওয়ার ভিডিও সামনে আসতেই তাদের তৃণমূল কর্মী বলে দাবী করেন মোশারফ হোসেইন। আর তাতেই রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে চরমে। ইতিমধ্যেই এনিয়ে সুর চড়িয়েছে বিজেপি।
LIVE TV:
বৃহস্পতিবার ইটাহার হাইস্কুলের শুনানী কেন্দ্রে ভাঙচুর কাণ্ডে ইটাহারের বিডিও-র অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে দুই যুবককে গ্রেফতার করে। ধৃতরা হলেন আবুজার আকাশ (২৮) ও আতাবুল হক (৩২)। ইটাহারের চাবোট এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেফতার করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
শুক্রবার ধৃতদের বিরুদ্ধে একটি জামিন অযোগ্য ধারা সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে রায়গঞ্জ সিজেএম আদালতে তোলা হয়। বিচারক আগামী ২৭ জানুয়ারি মামলার কল ফর সিডি নির্দেশ দেন। মঙ্গলবার জামিনে মুক্তি পেয়ে ইটাহারে ফিরতেই তাঁদের ঘিরে শুরু হয় বিতর্ক।
অভিযোগ, জামিনে মুক্ত হয়ে বাড়ি ফেরার পর অভিযুক্তদের গাঁদা ফুলের মালা পরিয়ে ‘বীরের সম্মান’ জানানো হয়। তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা এই সংবর্ধনায় অংশ নেন বলে অভিযোগ। সেই ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হতেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে যায়।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ঘটনার দিন ইটাহারের বিধায়ক মোশারফ হোসেন জানিয়েছিলেন যে অভিযুক্তরা তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত নন। তবে ভাইরাল ছবির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি পরে অভিযুক্তদের তৃণমূল কর্মী বলে দাবি করেন। এই অবস্থান বদলকে কেন্দ্র করেই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা।
বিরোধীদের অভিযোগ, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের অভিযুক্তদের প্রকাশ্যে সংবর্ধনা দিয়ে শাসক দল আইনহীনতার সংস্কৃতিকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। যদিও তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশের দাবি, বিষয়টি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে রাজনৈতিক রং দেওয়া হচ্ছে।
পুরো ঘটনাকে ঘিরে ইটাহার জুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। প্রশাসনের ভূমিকা ও শাসক দলের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে।
