# রাজ্যের মন্ত্রীসভা সম্প্রসারনের ইঙ্গিত
# সোমবার শপথ নিতে পারেন ৩৫ পূর্ণমন্ত্রী
ভারত টিভি ডিজিটাল: নতুন সরকার গঠনের পর এবার রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের সমস্ত নজর মন্ত্রীসভা সম্প্রসারণের দিকে। সূত্রের খবর, আগামী সোমবার লোকভবনে অনুষ্ঠিত হতে পারে নতুন সরকারের মন্ত্রীদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। জানা যাচ্ছে, প্রায় ৩৫ জন পূর্ণমন্ত্রী শপথ নিতে পারেন। যদিও এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনও তালিকা প্রকাশ করা হয়নি, তবুও সম্ভাব্য মন্ত্রীদের নাম নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।
আরও বিস্তারিত দেখুন-
সূত্রের দাবি, নতুন সরকারের প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করে তুলতেই এই বৃহৎ মন্ত্রীসভা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নির্বাচনের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলি দ্রুত বাস্তবায়ন, বিভিন্ন দফতরের কাজের গতি বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই মন্ত্রীসভায় একাধিক নতুন মুখকে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। পাশাপাশি অভিজ্ঞ নেতাদেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়ে প্রশাসনিক ভারসাম্য বজায় রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে খবর।
সম্ভাব্য পূর্ণমন্ত্রীদের তালিকায় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের নাম। উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব এবং সাংগঠনিক দক্ষতার কথা মাথায় রেখেই তাঁকে মন্ত্রীসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা। দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি নির্বাচনী ক্ষেত্রেও তাঁর সাফল্য নজর কেড়েছে।
এছাড়াও সম্ভাব্য মন্ত্রীদের তালিকায় রয়েছেন কালিয়াগঞ্জের বিজেপি বিধায়ক উৎপল মহারাজ। কালিয়াগঞ্জের রাজনীতিতে আগে থেকে তাকে দেখা না গেলেও হিন্দু জাগরণ এবং ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের সন্যাসী হওয়ায় হিন্দুত্ববাদী আন্দোলনে তাকে একাধিকবার সামনে থেকে লড়াই করতে দেখা গেছে। কালিয়াগঞ্জ কান্ডের সময়েও উৎপল মহারাজকে আন্দোলনে দেখা গিয়েছিলো। এছাড়াও সম্ভাব্য মন্ত্রীদের তালিকায় রয়েছেন বিধায়ক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, তাপস রায়, মনোজ ওঁড়াও, স্বপন দাশগুপ্ত, শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, অর্জুন সিং এবং রূপা গাঙ্গুলি বলে সুত্রের খবর। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই নামগুলির মধ্যে যেমন অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব রয়েছেন, তেমনই রয়েছেন এমন কিছু মুখ যাঁদের মন্ত্রীসভায় অন্তর্ভুক্তি নতুন বার্তা দিতে পারে।
বঙ্গে ফিরছে বঙ্গলক্ষ্মী ! –
বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ, জঙ্গলমহল এবং সীমান্তবর্তী এলাকার প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর বিষয়টিও নতুন মন্ত্রীসভা গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্ব পেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মন্ত্রীসভায় স্থান দিয়ে সরকার সমগ্র রাজ্যের ভারসাম্যপূর্ণ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে চাইতে পারে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাগত ক্ষেত্রের প্রতিনিধিদেরও গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে বলে রাজনৈতিক সূত্রের দাবি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকারের সামনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ রয়েছে। কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, শিল্পায়ন, কৃষি উন্নয়ন, পরিকাঠামো সম্প্রসারণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার মানোন্নয়ন— এই সমস্ত ক্ষেত্রেই দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ প্রয়োজন। সেই কারণেই মন্ত্রীসভাকে আরও সক্রিয় ও কর্মক্ষম করে তোলার লক্ষ্যেই বড়সড় রদবদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
তবে সম্ভাব্য তালিকায় যাঁদের নাম উঠে এসেছে, তাঁদের সকলেই শেষ পর্যন্ত মন্ত্রী হবেন কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নামের তালিকায় পরিবর্তন হতে পারে। শপথ গ্রহণের আগে দলীয় নেতৃত্ব ও শীর্ষ মহলের চূড়ান্ত অনুমোদনের পরেই নির্ধারিত হবে কারা নতুন মন্ত্রীসভায় স্থান পাচ্ছেন।
এদিকে সম্ভাব্য মন্ত্রীসভা সম্প্রসারণের খবর সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। নতুন সরকারের প্রথম বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে এই মন্ত্রীসভা গঠনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। কার হাতে কোন দফতরের দায়িত্ব যাবে, কোন কোন নতুন মুখ মন্ত্রীসভায় জায়গা পাবেন এবং প্রশাসনের ভবিষ্যৎ রূপরেখা কী হবে— তা জানতে এখন সোমবারের দিকেই তাকিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।
তবে সরকারিভাবে কোনও ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত এই তালিকাকে সম্ভাব্য তালিকা হিসেবেই দেখার পরামর্শ দিচ্ছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এখন দেখার, সোমবারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে শেষ পর্যন্ত কোন কোন নাম উঠে আসে এবং নতুন সরকারের মন্ত্রীসভা কতটা নতুন চেহারা পায়।
(বিঃদ্রঃ এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত নামগুলি সূত্রভিত্তিক। সরকারিভাবে ঘোষণার আগে এগুলিকে সম্ভাব্য তালিকা হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।)