ভারত টিভি ডিজিটালঃ সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষকদের জন্য বড় নির্দেশিকা জারি করল নবান্ন।
রাজ্যের সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং সরকার পোষিত বা সরকারি অনুদান প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্য এবার কড়া নির্দেশিকা জারি করল নবান্ন। সম্প্রতি প্রকাশিত এই নির্দেশিকাকে ঘিরে প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে সরকারি কর্মীদের সম্পর্ক নিয়ে যে নতুন নিয়ম আনা হয়েছে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা।
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক বা সরকার পোষিত প্রতিষ্ঠানের কর্মী কোনোভাবেই সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকতে পারবেন না। এমনকি কোনো সংবাদ মাধ্যমের হয়ে কাজ করা, সংবাদ পরিবেশন করা, সাংবাদিকতা করা বা মিডিয়ার সঙ্গে পেশাগতভাবে যুক্ত থাকাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি সংবাদ মাধ্যমকে কোনো প্রতিক্রিয়া বা বিবৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রেও কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
—
## কী বলা হয়েছে নির্দেশিকায়
নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, সরকারি কর্মীদের আচরণবিধি আরও কঠোরভাবে কার্যকর করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে—
* কোনো সরকারি কর্মচারী সংবাদমাধ্যমে নিয়মিত লেখা লিখতে পারবেন না।
* কোনো টিভি চ্যানেল, ইউটিউব সংবাদ মাধ্যম বা ডিজিটাল নিউজ প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত থাকা যাবে না।
* সাংবাদিক পরিচয়ে কাজ করা বা সংবাদ সংগ্রহে অংশ নেওয়া যাবে না।
* প্রশাসনিক বিষয়ে অনুমতি ছাড়া সংবাদ মাধ্যমে বক্তব্য রাখা যাবে না।
* সোশ্যাল মিডিয়ায় সরকারি নীতি নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করাও সমস্যার কারণ হতে পারে।
এই নির্দেশ কার্যকর হবে সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, সরকারি অনুদান প্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মী এবং সরকার পোষিত সংস্থার কর্মীদের ক্ষেত্রেও।
—
## কেন এই সিদ্ধান্ত
প্রশাসনের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বহু সরকারি কর্মচারী বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ইউটিউব সংবাদ মাধ্যমে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। কেউ কেউ আবার নিজেদের পরিচয় ব্যবহার করে সংবাদ পরিবেশন বা রাজনৈতিক মন্তব্যও করছেন। এর ফলে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে পড়ছে বলে মনে করছে সরকার।
নবান্নের মতে, একজন সরকারি কর্মচারীর মূল দায়িত্ব প্রশাসনিক কাজ করা। সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলে অনেক সময় সরকারি তথ্য বাইরে চলে যেতে পারে বা প্রশাসনিক গোপনীয়তা ক্ষুণ্ণ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। সেই কারণেই এই কড়া অবস্থান নেওয়া হয়েছে।
—
## শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম
এই নির্দেশ শুধু সরকারি অফিসেই সীমাবদ্ধ নয়। রাজ্যের সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য করা হয়েছে।
অনেক শিক্ষক বর্তমানে ইউটিউব চ্যানেল, অনলাইন নিউজ পোর্টাল বা ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে মত প্রকাশ করেন। নতুন নির্দেশিকার ফলে এই ধরনের কার্যকলাপ নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
শিক্ষা মহলের একাংশের মতে, শিক্ষকরা সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাঁদের বক্তব্য অনেকেই গুরুত্ব সহকারে দেখেন। তাই প্রশাসন চাইছে সরকারি কর্মচারীদের মতো শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও নিরপেক্ষতা বজায় থাকুক।
—
## সংবাদ মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দিলে
নতুন নির্দেশিকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল সংবাদ মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দেওয়া নিয়েও কড়াকড়ি। অর্থাৎ কোনো সরকারি কর্মচারী যদি প্রশাসনিক বা সরকারি বিষয়ে সংবাদ মাধ্যমকে সরাসরি মন্তব্য করেন, তাহলেও তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, কোনো ঘটনার পর সংবাদ মাধ্যম সরকারি কর্মচারীদের প্রতিক্রিয়া নেয়। কিন্তু এখন থেকে অনুমতি ছাড়া সেই ধরনের মন্তব্য করাও সমস্যার কারণ হতে পারে।
তবে বিশেষ ক্ষেত্রে সরকারের অনুমোদন থাকলে নির্দিষ্ট আধিকারিক সংবাদ মাধ্যমে বক্তব্য রাখতে পারবেন বলে জানা গিয়েছে।
—
## সোশ্যাল মিডিয়াতেও নজর
বর্তমানে সংবাদ মাধ্যম শুধু টিভি বা সংবাদপত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম এবং বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মও সংবাদ পরিবেশনের বড় মাধ্যম হয়ে উঠেছে। সেই কারণে সোশ্যাল মিডিয়াতেও নজরদারি বাড়ানো হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
যদি কোনো সরকারি কর্মচারী নিয়মিত রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে ভিডিও তৈরি করেন বা সংবাদধর্মী কনটেন্ট প্রকাশ করেন, তাহলে সেটিও এই নির্দেশিকার আওতায় আসতে পারে।
—
## কী হতে পারে শাস্তি
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, এই নির্দেশ অমান্য করলে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হতে পারে। পরিস্থিতি অনুযায়ী সতর্কবার্তা, শোকজ, সাসপেনশন এমনকি কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।
সরকারি কর্মচারীদের জন্য আগে থেকেই নির্দিষ্ট আচরণবিধি রয়েছে। নতুন এই নির্দেশ সেই আচরণবিধিকে আরও কঠোরভাবে কার্যকর করার পদক্ষেপ বলেই মনে করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে নবান্নের এই নতুন নির্দেশিকা এখন প্রশাসনিক মহলে অন্যতম আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক এবং সরকার পোষিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মধ্যে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।
আগামী দিনে এই নির্দেশ কতটা কঠোরভাবে কার্যকর করা হবে এবং বাস্তবে এর প্রভাব কতটা পড়বে, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের। যদিও এই নির্দেশিকায় রাজ্যে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে এবং সেক্ষেত্রে বেকার যুবক-যুবতীরা এমনকি সংবাদমাধ্যমে কাজের জন্য প্রশিক্ষনপ্রাপ্তরা কাজের সুযোগ পাবেন বলে আশাবাদী যুব সমাজ।
